ব্যাংকের স্থায়ী আমানত (এফডিআর), সঞ্চয়পত্র বা শেয়ারবাজারের বাইরে যাঁরা পূর্বানুমানযোগ্য আয়ের বিকল্প খুঁজছেন, তাঁদের জন্য বন্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বন্ড মূলত ঋণপত্র, যার মাধ্যমে সরকার, ব্যাংক বা বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান তহবিল সংগ্রহ করে এবং নির্ধারিত শর্তে সুদ বা মেয়াদ শেষে নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে। দেশে সরকারি ট্রেজারি বন্ড এবং বেসরকারি করপোরেট বন্ডের পাশাপাশি রয়েছে শরিয়াহভিত্তিক সুকুক, পারপিচুয়াল ও জিরো-কুপন বন্ড।

সম্প্রতি ব্র্যাক ব্যাংক দেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে ১ হাজার কোটি টাকার তিন বছর মেয়াদি গ্রিন বন্ড ইস্যু করেছে। এটি একটি জামানতহীন জিরো-কুপন বন্ড, যেখান থেকে সংগৃহীত অর্থ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব ভবন ও কারখানায় জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির মতো প্রকল্পে অর্থায়নে ব্যবহৃত হবে। এ ধরনের বন্ডে নির্দিষ্ট বিরতিতে সুদ দেওয়ার বদলে অভিহিত মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হয়। ব্র্যাক ব্যাংকের ১০ লাখ টাকা অভিহিত মূল্যের বন্ডটি ৮ লাখ ৪ হাজার ৯৬১ টাকায় কেনা যাচ্ছে, যা তিন বছর পর পূর্ণ অভিহিত মূল্যে ফেরত নিয়ে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯ টাকা মুনাফা পাওয়া যাবে।

বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু ঘোষিত মুনাফার হার না দেখে কর-পরবর্তী প্রকৃত আয় যাচাই করা প্রয়োজন। ব্র্যাক ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, তাদের গ্রিন বন্ডের মুনাফায় অগ্রিম আয়কর প্রযোজ্য নয় এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কর রেয়াত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া শেয়ারবাজার থেকে মেয়াদের আগেই বন্ড বিক্রি করে নগদ অর্থ তোলার সুবিধাও থাকবে।

তবে বন্ড পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। সরকারি ট্রেজারি বন্ডে সরকারের নিশ্চয়তা থাকলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বন্ডের ক্ষেত্রে ইস্যুকারীর ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করা জরুরি। ব্র্যাক ব্যাংকের বন্ডটি জামানতহীন হওয়ায় ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা এখানে মূল বিবেচ্য। পাশাপাশি বাজারে সুদের হার বৃদ্ধি পেলে নির্দিষ্ট মেয়াদি বন্ডের দাম কমতে পারে এবং মেয়াদপূর্তির আগে বিক্রি করলে লোকসানের ঝুঁকি থাকে।

ট্রেজারি বন্ড কিনতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে হিসাব খুলতে হয়, কারণ সব ব্যাংক এটি বিক্রি করে না। অন্যদিকে শেয়ারবাজারের মাধ্যমে বন্ড লেনদেনের জন্য বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব থাকা আবশ্যক। সার্বিক দিক বিবেচনায় সব অর্থ এক জায়গায় না রেখে শর্ত ও ঝুঁকি পর্যালোচনা করে বিনিয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে করপোরেট ও গ্রিন বন্ডের ব্যবহার বাড়ছে। কেবল ঘোষিত সুদের হারের ওপর নির্ভর না করে কর সুবিধা, ঋণ পরিশোধ ঝুঁকি এবং মেয়াদপূর্তির আগে বিক্রির সুযোগ বিবেচনা করা বন্ডে বিনিয়োগের জন্য জরুরি।

আপনার কী করা উচিত?

  1. 1ট্রেজারি বন্ড কিনতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে গিয়ে প্রয়োজনীয় হিসাব খোলার শর্ত জেনে নিন।
  2. 2শেয়ারবাজারের মাধ্যমে ট্রেজারি বা করপোরেট বন্ড কেনার ক্ষেত্রে সক্রিয় বিও (BO) হিসাব নিশ্চিত করুন।
  3. 3যেসব করপোরেট বা ব্যাংক বন্ড জামানতহীন, সেগুলোতে অর্থ বরাদ্দের আগে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ও মেয়াদের আগে নগদায়নের নিয়ম পর্যালোচনা করুন।

সূত্র: Prothom Alo