বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় হাতখরচ জোগাড়ের চিন্তা থেকে অনলাইনে কাজের খোঁজ শুরু করেছিলেন কুমিল্লার লাকসামের দুই ভাই নাজমুস শাহাদাত ও নাজমুস সাকিব। বড় ভাই সাকিব চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির এবং ছোট ভাই শাহাদাত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। শুরুতে ইউটিউব ও সাধারণ অনলাইন কার্যক্রমে তেমন সুবিধা করতে না পারলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে মিম ও কনটেন্ট তৈরি করে অবশেষে সাফল্যের দেখা পেয়েছেন তাঁরা।

শাহাদাত এআই টুল দিয়ে বিভিন্ন কার্টুন তৈরি করতেন এবং দুই ভাই মিলে সেগুলোর সঙ্গে মজার সংলাপ জুড়ে দিয়ে মিম বানাতেন। ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে সেগুলো শেয়ার করার পর ধীরে ধীরে কনটেন্ট ভাইরাল হতে শুরু করে। পেজের ইনসাইট পর্যালোচনা করে তাঁরা দেখেন, তাঁদের দর্শকগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা, বিশেষ করে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক মানুষ। তাঁদের অবসরজীবন, বয়স ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার নানা রসিকতা পছন্দ করছিলেন আমেরিকান নেটিজেনরা।

এই জনপ্রিয়তাকে কেন্দ্র করে মিমের নকশা ও সংলাপ টি-শার্টে ছাপিয়ে বিক্রির পরিকল্পনা করেন দুই ভাই। এতে যুক্ত হন তাঁদের খালাতো ভাই মোহাম্মদ হাসান রাফি, যিনি ডিজাইনের দিকটি সামলান। পণ্য উৎপাদন ও ডেলিভারির জন্য তাঁরা একটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেন। ফলে শাহাদাতরা শুধু ফেসবুক ও নিজস্ব ওয়েবসাইটের (urprintz.com) মাধ্যমে ডিজাইন তুলে ধরে অর্ডার সংগ্রহ করেন, আর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছে দেয়।

টি-শার্ট ছাড়াও এখন সোয়েটশার্ট, হুডি ও টাম্বলারের মতো পণ্য বিক্রি করছে এই উদ্যোগ। বিশেষ করে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত হ্যালোইন ও বড়দিনের উৎসবকে ঘিরে ব্যবসা বাড়ে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। শাহাদাত জানান, তাঁদের পেজ ও গ্রুপ মিলিয়ে বর্তমানে অনুসারী ও সদস্যসংখ্যা ৪০ লাখের বেশি।

উদ্যোক্তাদের দাবি, ২০২৪ সালে এক বছরেই তাঁরা ব্যবসা থেকে প্রায় এক কোটি টাকা আয় করেছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে এখন ১৫ জনের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। ভালো বিক্রি ও ওয়েবসাইটের কার্যক্রমের জন্য আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম শপবেজ থেকেও তাঁরা স্বীকৃতি পেয়েছেন। প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম ও নীতিমালার পরিবর্তনের ঝুঁকি এড়াতে ভবিষ্যতে ইনস্টাগ্রাম, পিন্টারেস্ট এবং নিজস্ব ওয়েবসাইটের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি পণ্যের তালিকা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন তাঁরা।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

লোকাল ফ্রিল্যান্সিং বা কনটেন্ট নির্মাণের গণ্ডি ছাড়িয়ে এআই প্রযুক্তি এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিটিকস ব্যবহার করে কীভাবে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় আন্তর্জাতিক কনজিউমার মার্কেটে ই-কমার্স বা প্রিন্ট-অন-ডিমান্ড ব্যবসা সফল করা যায়, এটি তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।

সূত্র: Prothom Alo