ব্যাপক দরপতনের পর শুক্রবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজার। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় এই অস্থিরতা তৈরি হয়। তবে সপ্তাহের শেষভাগে এসে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বিষয়টি নতুন করে মূল্যায়ন করছেন।

শুক্রবার দুপুরের দিকে প্রযুক্তিভিত্তিক সূচক নাসডাক ১০০ প্রায় ১.৯ শতাংশ বেড়েছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সূচকটি ৬.৩ শতাংশ পড়ে যায়, যা কোভিড-১৯ মহামারির পর এক দিনে তাদের সবচেয়ে বড় দরপতন। অন্যদিকে বিস্তৃত এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকও বৃহস্পতিবার ৪.৪ শতাংশ কমে গিয়ে বাজার থেকে প্রায় ২.৮ ট্রিলিয়ন ডলার মুছে যাওয়ার পর শুক্রবার প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে।

মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই বাজারে এই অস্থিরতা দেখা দেয়। ওই নির্বাচনে এআই ও ডেটা সেন্টারের বিরোধী বেশ কয়েকজন রাজনীতিক জয়ী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম টেক্সাসের নবনির্বাচিত গভর্নর জিনা হিনোহোসা। উল্লেখ্য, টেক্সাস যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় ডেটা সেন্টার বাজার। বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক বৃদ্ধি ও সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় অংশই নির্ভর করছিল এআই খাতের ওপর। ফলে এই খাতে যেকোনো সম্ভাব্য বাধা বাজারের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। এ ছাড়া কংগ্রেস ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় এআই অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে নজরদারি বাড়তে পারে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ও বাড়তি ব্যয়ের কারণ হতে পারে বলে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অস্থিরতার তীব্র প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বাজারেও। শুক্রবার জাপানের নিক্কেই সূচক ২০২০ সালের পর সবচেয়ে খারাপ সপ্তাহের মুখে পড়ে প্রায় ৬ শতাংশ কমে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৮ শতাংশের বেশি কমলে সাময়িকভাবে লেনদেন স্থগিত করতে হয়। সেখানে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের মতো মেমরি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার শুরুতে ১০ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। এ ছাড়া তাইওয়ানের প্রধান সূচক ৯ শতাংশ কমেছে এবং চীনের বাজারেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। তবে দিনশেষে এশিয়ায় বড় কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কিছু ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, বৃহস্পতিবারের তীব্র বিক্রি কিছুটা অতিরঞ্জিত ছিল। দীর্ঘদিনের বাজার পর্যবেক্ষক অর্থনীতিবিদ এড ইয়ার্ডেনি একে এআই খাতের বড় বুদ্বুদ ঠেকানোর ক্ষেত্রে একটি সাময়িক বাধা হিসেবে দেখছেন। তবে আইনপ্রণেতাদের কারণে ডেটা সেন্টার নির্মাণ কতটা বাধাগ্রস্ত বা বাতিল হতে পারে, তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বাজারে এমন অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

মার্কিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক উল্লম্ফন ব্যাপকভাবে এআই অবকাঠামো ও চিপ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল ছিল। নীতিনির্ধারকদের অবস্থান পরিবর্তন ও রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে এই খাতে বিলম্ব বা প্রকল্প বাধার মুখে পড়লে তা বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি সরবরাহকারী ও বিনিয়োগকারীদের মুনাফায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

সূত্র: NBC News