নতুন কোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগ শুরুর ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা প্রায়ই তাদের পণ্যের কার্যকারিতা ও বাজারের আকার নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী থাকেন। তবে বাস্তবিকভাবে কোনো ধারণা সফল হতে হলে কেবল প্রশংসা নয়, গ্রাহক সেটির জন্য টাকা খরচ করতে ইচ্ছুক কি না তা নিশ্চিত হওয়া সবচেয়ে জরুরি। একটি কার্যকর ব্যবসা তখনই গড়ে ওঠে যখন গ্রাহকের এমন কোনো সমস্যা সমাধান করা যায়, যার জন্য তারা অর্থ, সময় বা শ্রম দিতে প্রস্তুত থাকে।

বিনিয়োগের আগে কোনো সাধারণ ধারণার বদলে সুনির্দিষ্ট ক্রেতা এবং তাদের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যসেবা বা জটিল বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী ও অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্তকারী ব্যক্তি এক নাও হতে পারেন। তাই শুধু ব্যবহারকারীর উৎসাহ দেখে বাণিজ্যিক চাহিদা নির্ধারণ করা যায় না; বরং যিনি অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা রাখেন তাকে শনাক্ত করা আবশ্যক।

বাজার যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বন্ধু বা পরিচিতদের প্রশংসার বদলে অচেনা সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বর্তমান অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। মানুষ অতীতে সেই সমস্যার সমাধানে কী পদক্ষেপ নিয়েছে, বিকল্প কোনো ব্যবস্থায় অর্থ বা সময় ব্যয় করেছে কি না, তা যাচাই করা দরকার। ইউএস স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (SBA) নতুন সুযোগ মূল্যায়নের সময় বাজার গবেষণার পাশাপাশি প্রতিযোগী বিশ্লেষণের ওপর জোর দেয়। অনেক সময় সরাসরি প্রতিযোগী না থাকলেও গ্রাহকের দীর্ঘদিনের অভ্যাস বা পরিবর্তনের খরচই পণ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

শুরুতেই পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট, ব্যয়বহুল অ্যাপ বা বড় দল তৈরি না করে প্রোটোটাইপ, সীমিত পরিষেবা বা পেইড পাইলটের মাধ্যমে ধারণার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্রি অপেক্ষা পেইড পাইলট, ডিপোজিট বা স্বাক্ষরিত চুক্তির মতো বাস্তবিক অঙ্গীকার যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরবরাহ খরচ এবং গ্রাহক যে মূল্য দিতে প্রস্তুত তা লাভজনক কি না, তা আগে থেকেই হিসাব করতে হবে।

প্রস্তাবিত পরীক্ষা শুরুর আগেই সাফল্যের মাপকাঠি এবং ধারণা ভুল প্রমাণিত হওয়ার শর্তগুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা জরুরি। প্রাথমিক ফলাফল আশানুরূপ না হলে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা বা সাময়িক বিরতি দেওয়া ব্যর্থতা নয়, বরং এটি অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষতি থেকে উদ্যোক্তাদের রক্ষা করে।

আপনার কী করা উচিত?

  1. 1সমস্যার সুনির্দিষ্ট বিবরণ, বর্তমান বিকল্প সমাধানের ব্যয় এবং অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্তকারী ব্যক্তিকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করুন।
  2. 2পরিচিত ব্যক্তিদের বাইরে বাস্তব গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানে তারা বর্তমানে অর্থ বা সময় ব্যয় করছেন কি না তা জানুন।
  3. 3বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের আগে প্রোটোটাইপ, সীমিত সেবা বা পেইড পাইলটের মাধ্যমে গ্রাহকের সত্যিকারের কেনার আগ্রহ যাচাই করুন।
  4. 4পরীক্ষা শুরুর আগেই লক্ষ্যমাত্রা এবং কোন ফলাফল এলে পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হবে তা লিখিতভাবে নির্ধারণ করুন।

সূত্র: Entrepreneur