সরকারি কর্মকর্তা কিংবা বৈধ প্রতিষ্ঠানের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা ঠেকাতে চলমান কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশ করেছে ইউএস ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ‘ইমপারসোনেশন রুল’ (Impersonation Rule) কার্যকরের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৪টি প্রয়োগমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তাদের ৮০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এছাড়া এফটিসির নামে পরিচালিত ১৯টি ভুয়া ওয়েবসাইটও বন্ধ করা হয়েছে।

এফটিসির ব্যুরো অব কনজিউমার প্রোটেকশনের পরিচালক ক্রিস্টোফার মুফারেজ জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণার যত অভিযোগ আসছে, তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে এই ভুয়া পরিচয়ের স্ক্যামগুলো। এতে ভোক্তারা শত শত কোটি ডলারের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ২০২৪ সালের ওই বিধি এফটিসিকে ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত এনে দেওয়া এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি জরিমানা আদায় করার ক্ষমতা দিয়েছে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রতি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ৫৩,০৮৮ ডলার পর্যন্ত দেওয়ানি জরিমানা হতে পারে।

২০২৫ সালের এপ্রিলের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এফটিসি ইমপারসোনেশন রুল লঙ্ঘনের অভিযোগে আটটি নতুন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক একটি পদক্ষেপ ছিল ‘ক্রেডিট গ্লোরি’ (Credit Glory) নামক একটি কথিত ক্রেডিট রিপেয়ার স্কিমের বিরুদ্ধে। এই প্রতিষ্ঠানটি ঋণ আদায়কারী ও ঋণদাতাদের ভুয়া পরিচয় দিয়ে সামরিক সদস্যসহ মার্কিন ভোক্তাদের কাছ থেকে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছিল। ২০২৬ সালের আগস্টে একটি ফেডারেল আদালত এফটিসির অনুরোধে এই কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে এবং এর সম্পদ জব্দ করে।

এর পাশাপাশি এফটিসি নিজেদের নাম নকল করে খোলা ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজ বন্ধ করতে ডোমেন রেজিস্ট্রার এবং সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ‘fttc.us’, ‘FTB-gov.us’ ও ‘FTC-Support.org’-এর মতো ১৯টি ভুয়া ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা ঠেকাতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গত সেপ্টেম্বরে এফটিসি জনসাধারণের মতামত চেয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া, সার্চ ইঞ্জিন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর বিজ্ঞাপন-সংক্রান্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে ভুয়া পরিচয়ের স্ক্যাম ছড়ানো হচ্ছে, তা মোকাবিলায় বিদ্যমান বিধিমালার হালনাগাদ বা নতুন নিয়ম চালুর বিষয়ে এই মতামত চাওয়া হয়।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

ইমপারসোনেশন রুল ভঙ্গের জন্য প্রতি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫৩,০৮৮ ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এফটিসির এই কঠোর তৎপরতা ও আইনি কাঠামো প্রতারকদের বিরুদ্ধে সরাসরি অর্থ বাজেয়াপ্ত এবং ভোক্তাদের খোয়া যাওয়া কোটি কোটি ডলার পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি করেছে।

আপনার কী করা উচিত?

  1. 1মনে রাখবেন, এফটিসি কখনো অর্থ দাবি করে না, হুমকি দেয় না, অর্থ স্থানান্তর করতে বলে না বা পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় না।
  2. 2সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইট ব্যবহারের সময় ডোমেনের শেষে '.gov' রয়েছে কি না এবং সংযোগটি নিরাপদ ('https://') কি না তা যাচাই করে নিন।
  3. 3কোনো ধরনের ভুয়া পরিচয় বা ব্যবসায়িক প্রতারণার শিকার হলে সরাসরি ReportFraud.ftc.gov ওয়েবসাইটে গিয়ে রিপোর্ট করুন।

সূত্র: Federal Trade Commission Business Guidance