যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির ওপর নজরদারি ও শুনানির জোরালো সুযোগ পেলেও, তার আরোপিত শুল্ক সরাসরি বাতিলের মতো আইন পাসের ক্ষেত্রে ভেটোর মুখে পড়তে পারেন। বাণিজ্য ও আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেসের এই রাজনৈতিক পরিবর্তনে ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম।
আইন অনুযায়ী নির্বাহী শাখার হাতে কংগ্রেসের দেওয়া প্রচুর বাণিজ্য ক্ষমতা ন্যস্ত রয়েছে। আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়াং-এর বাণিজ্য নীতি বিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্লেক হার্ডেন জানান, নির্বাচনের ফলাফলের কারণে প্রেসিডেন্টের বর্তমান বাণিজ্য কৌশল এবং কার্যকর থাকা শুল্কগুলোর ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেমোক্র্যাটদের মূল মনোযোগ এখন থাকবে বিভিন্ন বাণিজ্য কমিটির মাধ্যমে তদন্ত ও তদারকিমূলক শুনানি পরিচালনার দিকে।
কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে রয়টার্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ২৩৫টি আসন পেতে যাচ্ছেন এবং এনবিসি নিউজের হিসাবে তা ২৫৮ পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে সিনেটে দলটির আসনসংখ্যা ৫৪, যা মিসিসিপি ও আলাস্কার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আরও দুটি বাড়তে পারে। কোনো সাধারণ আইন পাস করতে পারলেও সিনেটে ৬০ ভোটের ফিলিবাস্টার সীমা অতিক্রম করতে এবং রাষ্ট্রপতির ভেটো অগ্রাহ্য করতে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন (সিনেটে ৬৭ এবং হাউজে ২৯০ ভোট) পাওয়া ডেমোক্র্যাটদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে।
হাউজের ট্যাক্স ও বাণিজ্য সংক্রান্ত ‘ওয়েজ অ্যান্ড মিনস’ কমিটির সম্ভাব্য পরবর্তী চেয়ারম্যান ডেমোক্র্যাটিক রিপ্রেজেন্টেটিভ রিচার্ড নিল এক বিবৃতিতে জানান, তারা এমন একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবেন যা সাধারণ মানুষের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেবে এবং দৈনন্দিন পণ্যের বর্ধিত খরচ কমাতে কাজ করবে। তিনি অভিযোগ করেন, শুল্কের কারণে সাধারণ ভোক্তা ও শ্রমিকদের ওপর খরচের বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বাণিজ্য উপদেষ্টা উইলিয়াম রেইনশ জানান, শুল্ক নির্ধারণে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব এবং ছোট ব্যবসার ওপর শুল্কের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে তদন্ত করার মতো পর্যাপ্ত বিষয় কংগ্রেসের হাতে রয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাটরা নিজেরাও ঐতিহ্যগতভাবে কিছু ক্ষেত্রে দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় শুল্ক সমর্থন করে থাকে এবং তারা এখনো কোনো সমন্বিত বিকল্প বাণিজ্যিক এজেন্ডা তৈরি করতে পারেনি।
এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের এই ফল সত্ত্বেও ট্রাম্প নতুন শুল্ক আরোপের তদন্ত থেকে পিছিয়ে আসবেন না। বিশেষ করে অতিরিক্ত শিল্প সক্ষমতা বিষয়ক সেকশন ৩০১ তদন্তের মাধ্যমে চীন, ভারত, ভিয়েতনামসহ এক ডজনেরও বেশি অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া চলতে পারে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
আইনসভার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলেও প্রেসিডেন্টের ভেটো বাতিল করার মতো পর্যাপ্ত দুই-তৃতীয়াংশ ভোট ডেমোক্র্যাটদের না থাকায় শুল্ক বাতিলের কোনো পদক্ষেপ কার্যকর হওয়া প্রায় অসম্ভব। ফলে আমদানি পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক অদূর ভবিষ্যতে কমার কোনো তাৎক্ষণিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র: The Business Standard










