বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে জাপানের কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, দেশটির ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো (এসএমই) যেন টয়োটা, হোন্ডা এবং সুজুকির মতো জাপানি ব্র্যান্ডগুলোর বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারে, সেজন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাবিত এই সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের এসএমই খাতের কারখানাগুলোকে প্রযুক্তি হস্তান্তর, আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতি, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণের দিকনির্দেশনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক মনোযোগ অটোমোবাইল খাতের ওপর থাকলেও ভবিষ্যতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইলেকট্রনিক্স, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ভারী শিল্পযন্ত্রাংশের বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের পথ সুগম হতে পারে।

পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি হিসেবে সরকার দীর্ঘদিন ধরে নতুন শিল্প খাত গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে। জাপানের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব সফল হলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সাশ্রয়ী শ্রমের ওপর নির্ভর না করে উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন ও মানসম্মত পণ্য উৎপাদনের দিকে এগোতে পারবে।

তবে এই লক্ষ্য অর্জনে কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিনিয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, অর্থায়নের সুবিধা এবং সহায়ক নিয়ন্ত্রক পরিবেশ নিশ্চিত করা এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

পোশাকশিল্পের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশকে উচ্চ প্রযুক্তির বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত করার পাশাপাশি এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই প্রযুক্তিভিত্তিক রূপান্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: The Financial Express Bangladesh