ভারতে দীপাবলি ও ধনতেরাস উৎসবকে কেন্দ্র করে শতবর্ষের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসছে। সনাতন লাল কাপড়ে মোড়ানো খাতা বা 'বহি-খাতা'র বদলে ব্যবসায়ীরা যুক্ত হচ্ছেন ডিজিটাল লেজার ও জিএসটি ব্যবস্থাপনায়। পাশাপাশি কেবল ভৌত সোনার গহনা কেনার গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ পরিবার ও তরুণ বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকছেন মিউচুয়াল ফান্ড, গোল্ড ইটিএফ এবং ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে।

চলতি বছরের ৬ নভেম্বর ধনতেরাসে মূল্যবান ধাতুর বাজারে চাঙাভাব দেখা গেছে। স্থানীয় বাজারে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম রেকর্ড পর্যায় থেকে কিছুটা কমে শুক্রবার প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০০ রুপিতে দাঁড়ায়, যা চলতি সপ্তাহের শুরুতে কমে দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮৬৩ রুপিতে। অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিল (জিজেসি) প্রাথমিক মূল্যায়নে জানিয়েছে, ধনতেরাসে ভারতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি রুপির সোনা বিক্রি হয়েছে, যা মূল্যের দিক থেকে আগের বছরের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি। তবে বিক্রির মোট পরিমাণ বা ভলিউম ছিল প্রায় অপরিবর্তিত। পাশাপাশি ডায়মন্ডের গহনার চাহিদাও ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

উৎসবে কেনাকাটার প্রভাব ভারতীয় অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে দৃশ্যমান। পিডব্লিউসি ইন্ডিয়ার হিসাব অনুযায়ী, ভারতে গাড়ি বিক্রির মোট বার্ষিক ভলিউমের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ এবং টেকসই ভোক্তা পণ্যের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশই সম্পন্ন হয় এই উৎসবের মৌসুমে। তবে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, বিক্রির অঙ্কে বড় প্রবৃদ্ধি হলেও সাধারণ পরিবারগুলো আগের চেয়ে বেশি সতর্কভাবে ব্যয় করছে। ডেলয়েটের মার্চ ২০২৬ কনজিউমার-সিগন্যাল জরিপ অনুযায়ী, ৭৯ শতাংশ ভোক্তা ভবিষ্যৎ বিল পরিশোধে আত্মবিশ্বাসী হলেও বড় ধরনের ক্রয়ের ক্ষেত্রে আগ্রহ ছিল ৬৫ শতাংশের, যা আগের মাসের চেয়ে কিছুটা কম।

উৎসবের এই আবহে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (বিএসই) ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে (এনএসই) প্রতিবছরের মতো বিশেষ 'মুহুরত ট্রেডিং' অনুষ্ঠিত হয়। বিএসইতে ১৯৫৭ সাল এবং এনএসইতে ১৯৯২ সাল থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ সেশনে নতুন সংবত বর্ষ শুরু করেন বিনিয়োগকারীরা। ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যকার ১০টি সেশনের আটটিতেই ইতিবাচক সূচক নিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে, যার মধ্যে ২০২৫ সালের অধিবেশনে সেনসেক্স ৬৩ পয়েন্ট এবং নিফটি ২৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। বিশ্লেষকদের মতে, উৎসবের এই সাময়িক ব্যয়প্রবাহ উৎসবের পরেও স্থায়ী থাকে কি না, সেটিই ভারতের ভোক্তা অর্থনীতির মূল পরীক্ষা।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

উৎসবকেন্দ্রিক ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ভারতের গাড়ি, টেকসই ভোক্তা পণ্য এবং সোনা-গহনার বাজারের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তবে সামগ্রিক বিক্রির মান বাড়লেও পণ্যের পরিমাণ আগের মতো থাকায় পরিবারগুলোর বাজেট সংকোচন এবং স্থায়ী ভোগব্যয়ের সক্ষমতা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে পর্যবেক্ষণ রয়েছে।

সূত্র: The Times of India