ফ্লোরিডার করদাতারা আগামী ৩ নভেম্বর, ২০২৬ নির্বাচনে ‘অ্যামেন্ডমেন্ট ৩’ নামের একটি সাংবিধানিক সংশোধনীর ওপর ভোট দেবেন। অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটির পক্ষে অন্তত ৬০ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের প্রয়োজন হবে। প্রস্তাবটি পাস হলে তা রাজ্যটির স্থানীয় সরকারগুলোর কর কাঠামোয় একটি বড় পরিবর্তন আনবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রপার্টি ট্যাক্সে বর্তমানের ২৫ হাজার ডলারের হোমস্টেড ছাড় বহাল থাকবে। তবে অন্যান্য সব স্থানীয় প্রপার্টি ট্যাক্সের ক্ষেত্রে এই ছাড় ২০২৭ সাল থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং ২০২৮ সাল থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারে উন্নীত করা হবে। ২০২৯ সাল থেকে এই ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের ছাড় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বয় করা হবে। এই বর্ধিত সুবিধার যোগ্য হতে হলে সম্পত্তি মালিককে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬-এর মধ্যে ফ্লোরিডার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।

অন্যদিকে, যারা ১ জানুয়ারি, ২০২৭ বা তার পরে হোমস্টেড প্রতিষ্ঠা করবেন, তারা স্কুল ট্যাক্সের জন্য ২৫ হাজার ডলারের ছাড় পাবেন। তবে অন্যান্য করের ক্ষেত্রে প্রথম পাঁচ বছর তাদের সর্বোচ্চ ছাড় হবে ৫০ হাজার ডলার। পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তারা পুরনো বাসিন্দাদের মতো পূর্ণ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন। এছাড়া কাউন্টি ও মিউনিসিপ্যালিটিগুলো চাইলে যাতে নিজ উদ্যোগে এই ছাড়ের পরিমাণ আরও বাড়াতে বা অবশিষ্ট পুরো মূল্যায়ন মূল্যে ছাড় দিতে পারে, সে বিষয়ে রাজ্য আইনসভাকে একটি অভিন্ন প্রক্রিয়া তৈরির দায়িত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে এই সংশোধনে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ‘সেভ আওয়ার হোমস’ (SOH) সুবিধার অধীনে হোমস্টেড সম্পত্তির নির্ধারিত অ্যাসেসড ভ্যালু বছরে ৩ শতাংশ বা ভোক্তা মূল্যসূচকের (CPI) পরিবর্তনের মধ্যে যেটি কম, তার বেশি বাড়ানো যায় না। সংশোধনী ৩ পাস হলেও এই সীমা এবং ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্জিত সুবিধা নতুন বাড়িতে স্থানান্তরের (পোর্টেবিলিটি) সুযোগ অপরিবর্তিত থাকবে। তবে যেসব সম্পত্তি হোমস্টেড হিসেবে যোগ্য নয়, সেগুলোর বাৎসরিক মূল্যায়ন বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা বর্তমান ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০২৭ সাল থেকে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।

ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের এক গবেষণা অনুযায়ী, এই প্রস্তাব অনেক বাড়িওয়ালাকে তাৎক্ষণিক করের চাপ থেকে স্বস্তি দিলেও তা স্থানীয় সরকারগুলোর আয়ের ভিত্তি উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত করবে। এর ফলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলো অন্যান্য করের ওপর চাপ বাড়াতে, বিকল্প আয়ের উৎস খুঁজতে কিংবা নাগরিক পরিষেবা কমাতে বাধ্য হতে পারে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

এই সংশোধনী অনুমোদিত হলে বাড়িওয়ালাদের করের চাপ কমবে, তবে স্থানীয় সরকারগুলোর রাজস্ব হ্রাস পাওয়ায় অবকাঠামো, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের মতো জনসেবার ব্যয় নির্বাহে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে এবং করের বোঝা ভিন্ন খাতে স্থানান্তরিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

আপনার কী করা উচিত?

  1. 1ফ্লোরিডার স্থায়ী বাসিন্দারা ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর ব্যালটে এই সংশোধনীর শর্ত ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে অবগত থাকতে পারেন।
  2. 2২০২৭ সালের আগে বা পরে বাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত করছাড়ের নিয়মে কী পার্থক্য রয়েছে, তা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ক্রেতারা নজরে রাখতে পারেন।

সূত্র: Tax Foundation