পণ্যমূল্য প্রদর্শনে প্রতারণার অভিযোগে খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ডলার জেনারেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)। সংস্থাটির সঙ্গে যৌথভাবে এ মামলায় যুক্ত হয়েছে দেশটির ২০টি অঙ্গরাজ্য।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ডলার জেনারেল দীর্ঘদিন ধরে তাদের তাক, প্রাইস ট্যাগ এবং বিজ্ঞাপনে প্রদর্শিত মূল্যের তুলনায় ক্যাশ কাউন্টারে বেশি অর্থ কেটে রাখছে। বছরের পর বছর ধরে পণ্যের ভুল দাম প্রদর্শন এবং গ্রাহকদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার এ সমস্যার কথা করপোরেট পর্যায়ে জানা থাকা সত্ত্বেও তা সংশোধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে ভোক্তাদের লাখ লাখ ডলার বাড়তি ক্ষতি হয়েছে।
এফটিসির ব্যুরো অব কনজিউমার প্রটেকশনের ডিরেক্টর ক্রিস্টোফার মুফারেজ বলেন, প্রতিষ্ঠানটি লাখ লাখ মার্কিন ভোক্তার বিশ্বাস ভেঙেছে এবং সাধারণ গ্রাহক ও জনগোষ্ঠীর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। এফটিসি এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি, এ ধরনের আচরণ এফটিসি অ্যাক্ট, গ্রাহাম-লিচ-ব্লিলি অ্যাক্ট এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আইন লঙ্ঘন করেছে।
দেশজুড়ে ডলার জেনারেলের ২১ হাজারের বেশি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। কম মূল্যের সুবিধার কারণে বিশেষ করে স্বল্প ও নির্দিষ্ট আয়ের বহু পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য এসব স্টোরের ওপর নির্ভর করে।
কমিশনে ২-০ ভোটে অনুমোদনের পর ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ফর দ্য মিডল ডিস্ট্রিক্ট অব টেনেসি-তে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাটিতে যুক্ত হওয়া অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ জার্সি, কানেটিকাট, ইলিনয়, ফ্লোরিডা, ওহাইও, মিশিগান এবং নর্থ ক্যারোলাইনা সহ মোট ২০টি রাজ্য।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
২১ হাজারের বেশি স্টোর পরিচালনাকারী বৃহৎ ডিসকাউন্ট চেইনের বিরুদ্ধে এ মামলাটি খুচরা বাজারে পণ্যের প্রদর্শিত দাম ও ক্যাশ কাউন্টারের চার্জের গরমিল ঠেকাতে একটি বড় আইনি পদক্ষেপ। স্বল্প আয়ের গ্রাহকদের ওপর নিয়মিত কেনাকাটায় যে আর্থিক প্রভাব পড়ে, তা বন্ধেই কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আপনার কী করা উচিত?
- 1ডলার জেনারেল স্টোরে কেনাকাটার সময় শেলফে প্রদর্শিত মূল্যের সঙ্গে ক্যাশ কাউন্টারের বিল বা রসিদ মিলিয়ে দেখুন।
- 2বিলিংয়ে কোনো ধরনের প্রতারণামূলক চর্চা নজরে এলে এফটিসির প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট ReportFraud.ftc.gov-এ রিপোর্ট করতে পারেন।
সূত্র: Federal Trade Commission Business Guidance










