যুক্তরাষ্ট্রের গৃহায়ন বাজারে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। উচ্চ মর্টগেজ সুদের হারের কারণে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত হলেও সার্বিক বাজার ক্রেতাবান্ধব পরিস্থিতির দিকে ঝুঁকছে। রিয়েলটর ডটকমের (Realtor.com) ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের 'মার্কেট ক্লক' প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুদের হার বাড়ায় বাড়ি বিক্রির গতি মন্থর হয়ে বাজারে অবিক্রীত বাড়ির তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। ফলে অনিচ্ছুক বা দ্বিধান্বিত ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিক্রেতারা দাম ছাড় দিতে এবং বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা বা কনসেশন (concession) দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বিক্রেতার কাছ থেকে শর্তে ছাড় পাওয়ার মানেই সার্বিক আর্থিক স্বস্তি নয়। কারণ উচ্চ সুদের ফলে যে ক্রয়ক্ষমতা হারিয়েছে, তা কেবল দর কষাকষির মাধ্যমে পুরোপুরি পূরণ করা যাচ্ছে না।
রিয়েলটর ডটকমের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেল উল্লেখ করেছেন, আগস্টের শেষভাগ থেকে অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মর্টগেজ রেট ৬.৬৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭.৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। যারা প্রতি মাসে মূল ঋণ ও সুদের জন্য ২,০০০ ডলার বাজেট করেছিলেন, সুদের এই উল্লম্ফনে তাদের বাড়ি ক্রয়ের ক্ষমতা এক ধাক্কায় ২২,০০০ ডলার পর্যন্ত কমে গেছে।
জাতীয় পর্যায়ে বিশ্লেষণ করা ৯৯টি প্রধান মেট্রো এলাকার মধ্যে পুরোপুরি বিক্রেতাবান্ধব বাজারের সংখ্যা গত এক বছরে ৩৯টি থেকে কমে ২৭টিতে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে ক্রেতাবান্ধব বাজার ১৩টি থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭টি। বাকি ৫৫টি বাজার ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও তার মধ্যে ৪৯টিই এখন ধীরে ধীরে ক্রেতাদের অনুকূলে সরছে।
অঞ্চলভেদে বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। অপেক্ষাকৃত কম দামের কারণে মিডওয়েস্টে বিক্রেতাদের শক্ত অবস্থান বজায় রয়েছে এবং সেখানকার ১৬টি বাজার এখনও বিক্রেতাবান্ধব। তবে ঐতিহাসিকভাবে সরবরাহে ঘাটতি থাকা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে (নর্থ-ইস্ট) পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাচ্ছে; সেখানে বিক্রেতাবান্ধব বাজার ১১টি থেকে কমে মাত্র ৫টিতে নেমেছে। বোস্টন ও প্রভিডেন্সের মতো ব্যয়বহুল এলাকায় তালিকাভুক্ত বাড়ির সংখ্যা বাড়ায় ক্রেতারা এখন তাড়াহুড়ো না করে ধীরে-সুস্থে দরদাম করছেন।
অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলে ক্রেতাবান্ধব বাজার সবচেয়ে বেশি, যেখানে ১৪টি মেট্রো এলাকা এখন ক্রেতাদের পক্ষে। পশ্চিমাঞ্চলেও পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে; কলোরাডো স্প্রিংস বা বেকার্সফিল্ডের মতো এলাকায় সরবরাহ বাড়ায় বিক্রেতারা ক্রেতাদের সুদের হার কমাতে 'রেট বাইডাউন'-এর মতো সুবিধা দিতে পাঁচ অঙ্কের ডলার কনসেশন দিচ্ছেন। সামগ্রিকভাবে বাজারে দর কষাকষির বাড়তি সুযোগ থাকলেও উচ্চ সুদের কারণে সাধ ও সাধ্যের ফারাক রয়েই গেছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
মর্টগেজ সুদের হার ৭ শতাংশের ওপরে থাকায় মাসিক কিস্তির বোঝা বেড়ে গেছে, যার ফলে একই বাজেটে আগের চেয়ে কম মূল্যের বাড়ি খুঁজতে হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের তাড়াহুড়ো করে অতিরিক্ত দাম দিয়ে বিড করার চাপ কমেছে এবং হোম ইন্সপেকশন ও মূল্যে ছাড় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আপনার কী করা উচিত?
- 1বর্তমান বাজারে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বিক্রেতার কাছ থেকে 'রেট বাইডাউন' বা ক্লোজিং কস্টের কনসেশন নিয়ে মাসিক সুদের ভার কমানো যায় কি না, তা যাচাই করুন।
- 2সুদের ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে মাসিক বাজেট কতটুকু পরিবর্তিত হচ্ছে তা পুনরায় হিসাব করে সামর্থ্যের সীমা নির্ধারণ করুন।
সূত্র: Realtor.com










