কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের সঠিক কৌশল জানা থাকলে ছোট টিমগুলো বড় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের চেয়েও দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে পারে বলে প্রযুক্তি শিল্পে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভেঞ্চার ফান্ড ওয়াই কম্বিনেটরের (Y Combinator) প্রধান নির্বাহী গ্যারি ট্যান সম্প্রতি সিএনবিসিকে জানান, বর্তমানে ১০ জনেরও কম সদস্যের টিম নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ডলার পর্যন্ত রাজস্ব তৈরি করছে। এর বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখা গেছে 'বেস৪৪' (Base44) নামের আট কর্মীর একটি স্টার্টআপ চালুর ছয় মাসের মাথায় ৮ কোটি ডলারে সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম উইক্সের (Wix) কাছে বিক্রি হয়েছে।
প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের মতে, এআই-এর প্রভাব মাপার প্রচলিত পদ্ধতি বদলানো জরুরি। বিভিন্ন এআই টুল মূলত কত ঘণ্টা সময় বাঁচল বা কত বেশি আউটপুট তৈরি হলো তা ড্যাশবোর্ডে দেখায়। কিন্তু কোড বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান 'গিটক্লিয়ার' (GitClear)-এর ২১১ মিলিয়ন লাইনের কোড সংক্রান্ত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে এআই কোডিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহারের ফলে কাজের পরিমাণ বাড়লেও একই কোড বারবার কপি-পেস্ট হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্য একটি গবেষণাতেও একই সতর্কবার্তা উঠে এসেছে। 'ফারোস এআই' (Faros AI)-এর ১০ হাজারেরও বেশি সফটওয়্যার নির্মাতার ওপর চালানো ২০২৫ সালের সমীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব টিম বেশি এআই ব্যবহার করে তারা ২১ শতাংশ বেশি কাজ শেষ করতে পারলেও কোড পরীক্ষার সময় ৯১ শতাংশ এবং ভুলের হার ৯ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের 'স্ট্যাক ওভারফ্লো' ডেভেলপার জরিপে অংশ নেওয়া ৬৬ শতাংশ সফটওয়্যার নির্মাতা জানিয়েছেন, এআই-এর কাজ প্রায় সঠিক মনে হলেও পুরোপুরি নিখুঁত না হওয়া তাদের জন্য প্রধান উদ্বেগের বিষয়।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ নথিপত্র বাদ দিয়ে দ্রুত প্রোটোটাইপ তৈরি এবং এআই-এর তৈরি কাজের জন্য সুনির্দিষ্ট সংক্ষিপ্ত রূপরেখা বা নির্দেশিকা অনুসরণের পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত কর্মী দিয়ে প্রতিটি লাইন কোড পরীক্ষা না করিয়ে স্বয়ংক্রিয় ও মানসম্মত পরীক্ষা পদ্ধতি (অটোমেটেড টেস্টিং) চালুর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও একাধিক এআই মডেলকে একই প্রশ্ন করে মতৈক্য যাচাই এবং এরপর তা যাচাই-বাছাই করার পদ্ধতি কার্যকর বলে জানানো হয়েছে।
জনবল বেশি হলেই প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি দ্রুত হয় না উল্লেখ করে বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, টিম যত বড় হয় সমন্বয়ের জটিলতা তত বাড়ে। এ কারণে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম শপিফাইয়ের (Shopify) প্রধান নির্বাহী টোবি লুটকে নতুন কর্মী নিয়োগের অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট কাজ এআই দিয়ে করানো সম্ভব কি না, তা যাচাই করার নিয়ম চালু করেছেন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
প্রযুক্তি খাতে বড় বাজেট বা বেশি জনবলই শেষ কথা নয়। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির চেয়ে কাজের সঠিক মান নিশ্চিত করা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এআই-কে সুশৃঙ্খলভাবে প্রয়োগ করা ছোট উদ্যোক্তাদের টিকে থাকার প্রধান শক্তি হয়ে উঠছে।
আপনার কী করা উচিত?
- 1এআই আউটপুট কেবল সংখ্যার ভিত্তিতে না মেপে কাজের বাস্তব অগ্রগতি ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যের ভিত্তিতে যাচাই করুন।
- 2এআই কোডিং বা কন্টেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত একক নির্দেশিকা (ওয়ান-পেজ কন্ট্রাক্ট) অনুসরণ করুন।
- 3ভুলভ্রান্তি কমাতে মানুষের ওপর অতিরিক্ত পর্যালোচনার চাপ না দিয়ে স্বয়ংক্রিয় যাচাইকরণ বা অটোমেটেড টেস্টিং ব্যবস্থা চালু রাখুন।
- 4গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একাধিক এআই মডেলের উত্তর পর্যালোচনা করে যাচাই-বাছাই করুন।
সূত্র: Entrepreneur










