কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিভিন্ন পেশায় কর্মীদের কাজের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সক্ষম হলেও, অনেক ক্ষেত্রে মানুষের কাজ স্বয়ংক্রিয় করে কর্মসংস্থান কমানোর আশঙ্কা তৈরি করছে। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ দেশটির রাজস্ব ব্যবস্থার প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর এবং পেরোল ট্যাক্স থেকে। এআই প্রযুক্তির কারণে আয় যদি কর্মীদের মজুরির পরিবর্তে করপোরেট মুনাফা বা মূলধনি আয়ে স্থানান্তরিত হয়, তবে সরকারের কর আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে কাজ হারানো কর্মীদের সহায়তায় সামাজিক সুরক্ষা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির ব্যয়ও বাড়তে পারে।
ট্যাক্স পলিসি সেন্টারের এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ কমাতে আইনপ্রণেতারা এআই-নির্দিষ্ট কর বসানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছেন। বিশেষ করে এআই ডেটা সেন্টারগুলোর বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ২০২২ সালের পর গড়ে ওঠা নতুন ডেটা সেন্টারগুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এমন অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে পানির ঘাটতি রয়েছে। এ ধরনের কেন্দ্রগুলো স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাড়তি খরচের ভার যাতে নিজেরা বহন করে, তা নিশ্চিত করতে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।
নীতিনির্ধারকেরা এআই কর আরোপের জন্য বেশ কয়েকটি প্রাথমিক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত কম্পিউটিং সক্ষমতার ওপর কর, ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর কিলোওয়াট-ঘণ্টাভিত্তিক শুল্ক, এআইয়ের প্রক্রিয়াজাত তথ্যের বা টোকেনের ব্যবহারের ওপর কর এবং অতিরিক্ত বা অপ্রত্যাশিত মুনাফার ওপর 'উইন্ডফল প্রফিট ট্যাক্স'। প্রতিটি মডেলের মধ্যেই বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং রাজস্ব আদায়ের দিক থেকে নানা সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে, মডেল প্রশিক্ষণের সময় কম্পিউটিং সক্ষমতার ওপর কর বসানো হলে তা তাৎক্ষণিক রাজস্ব দিতে পারে এবং প্রযুক্তির অতিদ্রুত বিকাশ কিছুটা ধীর করতে পারে। তবে এটি তদারকি করা জটিল, কারণ কোম্পানিগুলোর নিজস্ব রিপোর্টের ওপর নির্ভর করতে হবে। অন্যদিকে বিদ্যুতের ওপর কর বসানো সহজ হলেও ডেটা সেন্টারের সাধারণ ক্লাউড সেবা ও এআই কাজের বিদ্যুৎ আলাদা করা কঠিন। আবার অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর আরোপের ক্ষেত্রে সাধারণ রিটার্ন ও অস্বাভাবিক মুনাফা আলাদা করা জটিল হয়ে উঠতে পারে। কর গবেষকদের মতে, এআইয়ের ওপর বিশেষ কর ছাড়াও মূলধনি আয়ের কর সংস্কার কিংবা সমন্বিত মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) মতো পদক্ষেপের মাধ্যমেও রাজস্ব ঘাটতির ঝুঁকি মোকাবেলা করা সম্ভব।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কর রাজস্বের সিংহভাগ সরাসরি সাধারণ মানুষের বেতন ও পারিশ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল। এআই প্রযুক্তির ফলে কর্মসংস্থান কমে গেলে সরকারের রাজস্ব যেমন কমবে, তেমনি বেকারত্ব বীমা ও অন্যান্য সুরক্ষা খাতে সরকারি ব্যয়ের চাহিদা বাড়বে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে কীভাবে কর কাঠামো বিন্যাস করা হবে, তা সরাসরি মার্কিন অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত।
সূত্র: Tax Policy Center










