যুক্তরাষ্ট্রে গৃহঋণের সুদের হার বেড়ে প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মর্টগেজ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এমবিএ) সাপ্তাহিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড-রেট মর্টগেজের গড় সুদ ১৯ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশে।
ঋণ গ্রহণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক মর্টগেজ আবেদনের সংখ্যাও আগের সপ্তাহের তুলনায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। এর ফলে আবেদনের হার ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং বছরের শুরুর তুলনায় তা প্রায় অর্ধেকে ঠেকেছে।
সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেপুটি চিফ ইকোনমিস্ট জোয়েল কান জানিয়েছেন, সুদের হার অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় বাড়ির মালিকদের জন্য নতুন করে রিফাইন্যান্স করার কোনো সুবিধা থাকছে না। একই সঙ্গে ঋণের উচ্চ ব্যয়ের কারণে সম্ভাব্য ক্রেতারাও বাড়ি কেনার বাজার থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মর্টগেজ রেট দেশটির ট্রেজারি নোটের আয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চলতি সপ্তাহের শুরুতে ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি নোটের ফলন বেড়ে ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছায়। পাশাপাশি ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড ৫ দশমিক ৭ শতাংশে উঠেছে, যা ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিক থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনার পর থেকে এখন পর্যন্ত মর্টগেজ রেট ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। এর পাশাপাশি বার্ষিক ৩ দশমিক ৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতিও সুদের হারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
আসন্ন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি আমেরিকানদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৭ শতাংশ ভোটার জীবনযাত্রার ব্যয়কে নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখছেন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
মর্টগেজ রেট ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশে ওঠায় সাধারণ মানুষের বাড়ি কেনার সামর্থ্য সরাসরি সংকুচিত হয়েছে। একই সঙ্গে রিফাইন্যান্সিংয়ের সুযোগ কমে যাওয়ায় সার্বিক আবাসন বাজারে লেনদেন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাচ্ছে।
সূত্র: Al Jazeera English










