মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে সৃষ্ট অস্থিরতায় মাত্র তিন দিনে ১ হাজার ৩০০টির বেশি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে। তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেলের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মিরপুর, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে এসব কারখানা বন্ধ থাকায় সাড়ে ৭ লাখের বেশি শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন।
বিজিএমইএর তথ্যে দেখা যায়, এই তিন দিনে সবচেয়ে বেশি কারখানা বন্ধ ছিল গাজীপুরে। সেখানে ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৭২০টি বন্ধ ছিল এবং সাড়ে ৪ লাখের বেশি শ্রমিক কর্মস্থলে যেতে পারেননি। আশুলিয়ায় বন্ধ ছিল ৪৬২টি কারখানা, যেখানে শ্রমিকের সংখ্যা ২ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি। এছাড়া মিরপুরে ৩২০টির মধ্যে ১৯২টি এবং নারায়ণগঞ্জে ১৯৭টির মধ্যে ২৯টি কারখানা বন্ধ রাখা হয়।
কারখানা বন্ধ থাকায় সময়মতো পণ্য উৎপাদন ও বিদেশে চালান পাঠানো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন রপ্তানিকারকরা। বিশেষ করে আসন্ন ক্রিসমাস বা বড়দিনকে সামনে রেখে বিদেশি ক্রেতাদের যেসব তৈরি পোশাক সরবরাহের কথা ছিল, সেগুলো পিছিয়ে যাওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য পাঠাতে না পারলে ক্রেতারা পণ্য গ্রহণে অনীহা দেখাতে পারেন অথবা মূল্যছাড় দাবি করতে পারেন, যা রপ্তানিকারকদের বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলবে।
পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, চলমান অস্থিরতার কারণে বিদেশি ক্রেতা প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফর এবং নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ও দ্বিধা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বিকল্প দেশে চলে যেতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে কারখানাগুলো বন্ধ থাকার প্রভাব পরিবহন, ব্যাংকিং ও প্যাকেজিংসহ সহযোগী খাতগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
পোশাকশিল্প বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত। ক্রিসমাসের পণ্য সরবরাহের সময় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে এবং ক্রয়াদেশ অন্য দেশে চলে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
সূত্র: Daily Amader Shomoy


















