যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় ‘শরিয়াহ-সম্মত’ তহবিল হিসেবে পরিচিত এইচএসবিসির ‘ইসলামিক গ্লোবাল ইকুইটি ইনডেক্স ফান্ড’ ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত পাঁচটি কোম্পানিতে ১০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের শেয়ার কিনেছে। মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাজ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকাংশ হালাল পেনশন স্কিমের অর্থ এই ফান্ডটিতেই বিনিয়োগ করা হয়ে থাকে।
ফান্ডটির অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আরটিএক্স (RTX)-এর ৩৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার কিনেছে এইচএসবিসি। আরটিএক্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রেথিয়ন ইসরায়েলের রাষ্ট্রায়ত্ত অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রাফায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর তৈরি করে। এছাড়া তারা এফ-১৫, এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ ও অস্ত্র সরবরাহ করে থাকে।
তালিকায় থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি অ্যানালগ ডিভাইসেস (ADI), যার ২০ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার কিনেছে ফান্ডটি। প্রতিষ্ঠানটি ইসরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র নির্মাতা এলবিট সিস্টেমসকে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে। এছাড়া সেন্সর ও গাইডেড অস্ত্রের যন্ত্রাংশ তৈরি করা মার্কিন প্রতিষ্ঠান হানিওয়েল ইন্টারন্যাশনালে ১৮ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার এবং রোলস-রয়েসে ১৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। রোলস-রয়েসের সহযোগী সংস্থা এমটিইউ ইসরায়েলি মারকাভা ট্যাঙ্কের ইঞ্জিন তৈরি করে।
এর পাশাপাশি সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম হাইফেন জানিয়েছে, এইচএসবিসির এই ফান্ডটি মার্কিন নজরদারি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি কোম্পানি প্যালান্টিয়ারের ৩৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার কিনেছে। প্যালান্টিয়ার ২০২৪ সালে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুদ্ধকালীন মিশন পরিচালনার অংশীদারিত্ব ঘোষণা করেছিল। এর বাইরে বিএই সিস্টেমসে (BAE Systems) প্রায় ৯ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি সংক্রান্ত কার্যক্রমে জড়িত বুকিং ডটকম ও এক্সপিডিয়ার শেয়ারও রয়েছে ফান্ডটির হাতে।
ইসলামিক ফিন্যান্স গুরু ওয়েবসাইটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইব্রাহিম খান জানিয়েছেন, এই তহবিলগুলোর বাছাই নীতিমালা অনেক আগে তৈরি করা হয়েছিল এবং রাতারাতি তা পরিবর্তন করা সহজ নয়। তবে যে জনগোষ্ঠীর জন্য এই তহবিল পরিচালিত হচ্ছে তাদের মূল্যবোধের কথা বিবেচনা করে নীতিমালা পরিবর্তন করা উচিত এবং এইচএসবিসির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মিডল ইস্ট আইয়ের পক্ষ থেকে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে এইচএসবিসি, আরটিএক্স বা হানিওয়েল কোনো সাড়া দেয়নি। অ্যানালগ ডিভাইসেস জানিয়েছে, তাদের শেয়ার উন্মুক্ত বাজারে বেচাকেনা হয় এবং কোনো তহবিলের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। রোলস-রয়েসের এক মুখপাত্র বলেছেন, তারা বিনিয়োগকারীদের কার্যক্রম নিয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ হালাল পেনশন পরিকল্পনার অর্থ এইচএসবিসির এই ফান্ডে জমা রাখা হয়। ফলে যেসব মুসলিম গ্রাহক ধর্মীয় নীতি মেনে যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে দূরে থাকা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের শর্তে এই তহবিল বেছে নিয়েছিলেন, তাঁদের অর্থের একটি অংশ অজান্তেই গাজা যুদ্ধ ও ইসরায়েলি সামরিক সরবরাহে যুক্ত সংস্থাগুলোতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সূত্র: Middle East Eye


















