ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছ থেকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পাওয়ার পর ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি গভর্নমেন্ট’ বা জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের লক্ষ্যে তৎপরতা শুরু করেছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জোট বাঁধতে তিনি প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পাবেন, যা প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। এই মেয়াদের মধ্যে জোট তৈরি করে দেশটির ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। নেসেটে সরকার গঠনে ন্যূনতম ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন, যেখানে আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে।

বর্তমানে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন চার দলের জোটের হাতে রয়েছে ৪৮টি আসন। এর বাইরে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি দলের হাতে রয়েছে ১৯টি আসন এবং তারা আইজেনকটকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটে ভাঙন দেখা দেওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাঁর দীর্ঘদিনের শরিক ৭ আসন পাওয়া ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) এবার সমর্থন না দেওয়ায় নেতানিয়াহুর জোটের আসন সংখ্যা নেমে এসেছে ৪৬-এ। তবে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে নেতানিয়াহু ও তাঁর জোটকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান থাকলেও সরকার গঠন প্রক্রিয়া জটিলতায় পড়েছে।

আইজেনকটের জোট শরিক ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর নেতারা আরব দলগুলোকে জোটে নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি তুলেছেন। বিশেষ করে সাবেক প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও অর্থমন্ত্রী এবং ইসরায়েল বেইতেনুর প্রধান অ্যাভিগদার লিবারম্যান আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে সরকার গঠনের বিষয়টি সরাসরি নাকচ করেছেন। ফলে আইজেনকটকে হয়তো সংখ্যালঘু সরকার গঠন অথবা অতি রক্ষণশীল দলগুলোর সমর্থন নিয়ে অগ্রসর হতে হবে, যার জন্য শরিকদের বিভিন্ন দাবি মেনে নেওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে।

আইজেনকট তাঁর সমর্থকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে জরুরি সরকার গঠন করে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তিনি নির্ধারিত সময়ে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনো সদস্যকে সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানাবেন এবং তিনিও ২৮ দিন সময় পাবেন। সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হলে নেসেট সদস্যরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তৃতীয় কোনো প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে পারবেন, যিনি ১৪ দিন সময় পাবেন। শেষ পর্যন্ত কোনো জোটই সরকার গঠনে সক্ষম না হলে নেসেট ভেঙে দিয়ে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে, যার আগপর্যন্ত বর্তমান নিয়মে নেতানিয়াহুর তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব পালন করবে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

এই উদ্যোগ সফল হলে ইসরায়েলে দীর্ঘদিনের নেতানিয়াহু সরকারের অবসান ঘটতে পারে; তবে আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরতা নিয়ে বিরোধীদের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণে দেশটিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হয়ে নতুন নির্বাচনের দিকে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।